শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কেরানীগঞ্জে ‘আল্লাহ দান’ রিক্সার গ্যারেজে অবাধ জুয়া, এলাকাবাসীর ক্ষোভ বাগমারায় গোবিন্দপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার বিতরণ নতুন উচ্চতায় প্রবেশ করছে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক : ড. ইউনূস গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত উদ্দিপ্ত তরুন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ রূপগঞ্জের কাঞ্চনে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হলেন কফিল উদ্দিন সওজ অধিদপ্তরে মদ জুয়ার কাসিনো চালায় প্রকৌশলী জাহিদ উজ্জল স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, আটক ৩ সাইবার নিরাপত্তায় MGST এজেন্সির ফাহিমের প্রশংসনীয় উদ্যোগ শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে কুড়িগ্রামে আটক-১
পুলিশের এসআই তপন কুমার অধিকারীর ক্ষমতার অপব্যবহার: নীলফামারী ও দেবীগঞ্জের জনজীবনে আতঙ্ক

পুলিশের এসআই তপন কুমার অধিকারীর ক্ষমতার অপব্যবহার: নীলফামারী ও দেবীগঞ্জের জনজীবনে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে, যখন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তখন তা সমাজে ভয় ও অসন্তোষের সৃষ্টি করে। নীলফামারী জেলার কচুয়া (অধিকারীপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে দেবীগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে এমনই একাধিক অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ:

কচুয়া গ্রামের দুই প্রতিবেশী, জ্যোতিষ চন্দ্র অধিকারী ও মো. মশিউর রহমান, এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

জ্যোতিষ চন্দ্র অধিকারীর অভিযোগ: তিনি জানান, প্রতিবেশী রাধিকানাথ অধিকারীর মহুয়া গাছের ডালপালা তার ঘরের উপর ঝুঁকে ছিল এবং গাছটি পোকায় ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও গাছটি না কাটায়, এক পর্যায়ে গাছটি ভেঙে তার ঘরের উপর পড়ে এবং দুটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকার মতো। ক্ষতিপূরণ চাইলে রাধিকানাথ অধিকারী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তার ছেলে এসআই তপন কুমার অধিকারীর মাধ্যমে জ্যোতিষ চন্দ্রকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এস আই তপন কুমার অধিকারী নিজেও গত ০২- ০৩ – ৩৫ ইং তারিখে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে জ্যোতিষ অধিকারীকে চড় থাপ্পর মারে এবং দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

মো. মশিউর রহমানের অভিযোগ: তিনি জানান, রাধিকানাথ অধিকারী তার বাবার কাছে জমি বিক্রির নামে একাধিকবার টাকা নিয়েছেন, কিন্তু জমির রেজিস্ট্রি করে দেননি। ন্যায্য জমির দাবি করলে, এসআই তপন কুমার অধিকারী পুলিশি দাপট দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। বেশকিছুদিন আগে তপন কুমার অধিকারী মো: মশিউর রহমানের শার্টের কলার ধরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ইয়াবা দিয়ে চালান করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

দেবীগঞ্জে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ:

এসআই তপন কুমার অধিকারীর বর্তমান কর্মস্থল দেবীগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের রক্ষা করেন, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ গ্রহণে অনীহা:

ডোমার ও নীলফামারী থানায় এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে, সংশ্লিষ্ট থানাগুলো অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

ক্ষমতার পেছনের কারণ:

তদন্তে জানা যায়, এসআই তপন কুমার অধিকারী একসময়ের আলোচিত ডিবি হারুনের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন নানা অপকর্ম করেছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ সহজে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।

উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান:

এসআই তপন কুমার অধিকারীর এই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য:

সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো বাহিনীর কারও গাফিলতি পেলে ছাড় দেয়া হবে না”। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আশা করা যায়, এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করণীয়:

১. স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন: এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।

২. অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া সহজ করা: স্থানীয় থানাগুলোকে অভিযোগ গ্রহণে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে হবে।

৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে অন্য কর্মকর্তারাও সতর্ক হন।

৪. জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত করতে হবে।

এসআই তপন কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এতে করে পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

ভালো লাগলে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2011 VisionBangla24.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com